Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

ছবি
শিরোনাম
কান্তজিউ মন্দির
বিস্তারিত

সুন্দরপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক স্থান কান্তজিউ মন্দির

বিশ্ব ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শনঃ

 

‌‍কান্তজিউ মন্দিরঃ  স্থাপত্যশিল্পের উজ্জ্বল নিদর্শন দিনাজপুরের  কান্তজিউ মন্দির । কি . মি. উত্তরে সুন্দরপুর ইউনিয়নে ঢেপা নদীর  তীরে এ মন্দির অবস্তিত । টেরাকোটা অলংকারের বৈচিত্র্যে ইন্দো-পারস্যস স্তাপনা কৌশল অবলম্বনে কালিয়া কান্তজিউ ।অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধ-বিগ্রহ অধিষ্ঠানের জন্য এ মন্দির নির্মিত হয়। মন্দিরটির অবস্থান শ্যামগড় এ লাকায় হলেও বিগ্রহের নামানুসারে এর নতুন নাম দেওয়া হয় কান্তনগর । এ কান্তনগর সম্পর্কে বহু পৌরাণিক উপাখ্যান প্রচলিত আছে। গবেষক মেহরাব আলী বহু বছর এ মন্দিরের স্থাপনা নিয়ে গবেষণা করেছেন । তার গ্রন্থানুসারে এক মিথ্যা অভিযোগে সম্রাট আওরঙ্গজেব দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথকে তলব করেন ।প্রাণনাথ মুঘল দরবারে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে রাজা উপাধি লাভ করেন। এ ঘটনায় তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে বৃন্দাবনে যান। সেখান থেকে তিনি একটি কৃষ্ণবিগ্রহ লাভ করেন । এরপর প্রায় ৩  একর জায়গা জুড়ে কান্তজিউ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।সম্পূর্ণ পোড়ামাটির তৈরী কান্তজিউ মন্দিরে রামায়ণ, মহাভারত , শ্রী কৃষ্ণের কাহানী ও সম্রাট আকবরের কিছু কাহিনী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে কান্তজিউ মন্দিরের বিভিন্ন টেরাকোটাচিত্রে প্রাচীন বাংলার সাধারন মানুষের জীবন যাত্রার নানাবিধ চিত্র ফুটে উঠেছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানুষের আচার- অনুষ্ঠান, পোষাক-পরিচ্ছেদের চিত্র। রাজা প্রাননাথ নিজেই একজন বৈষ্ণব ছিলেন। মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি থেকে জানা যায়, মহারাজার (মৃত্যু-১৭২২খ্রিঃ) প্রত্যক্ষ তত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় সে সব পোড়ামাটির ফলক নির্মিত হয়। তার নির্দেশমতো মহারাজার দত্তকপুত্র রাজা রামনাথ রায় মন্দিরের নির্মান কাজ শেষ করেন ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে। প্রায় ১ মিটার উচু এবং ১৮ মিটার বাহুবিশিষ্ট বর্গকার বেদীর উপর এ মন্দির নির্মিত। ইটের তৈরী মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার । তেতলা বিশিষ্ট এ মন্দিরের নয়টি চূড়া রয়েছে । এজন্য এটাকে নবরত্ন মন্দির বলা হয়। শুরুতে কান্তজিউ মন্দিরের উচ্চাত ছিল ৭০ ফুট। ১৮৯৭ সালে কান্তজিউ মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূড়াগুলো ভেঙ্গে যায়। পরে রাজা গিরিজনাথ মন্দিরের সংস্কার করলেও   এর চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি। মন্দিরের প্রাঙ্গন আয়াতকার হলেও পাথরের ভিত্তির উপর দাড়ানো ৫০ ফুট উচ্চাতার মন্দিরটি বর্গাকার। এর পরিমাপ ১৯.২০x১৯.২০ বর্গামিটার। মন্দিরটি ১৫.৮৪x১৫.৮৪ বর্গমিটার আয়তনের একটি বর্গাকার ইমারত। প্রতিটি তলার চারপাশে বারান্দা রয়েছে। মন্দিরের পচ্শিম দিকে দ্বিতীয় বরান্দা থেকে সিড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। এর নিচ তলায় ২৪ টি, দ্বিতীয় তলায় ২০ টি এবং তৃতীয় তলায় ১২ টি দরজা রয়েছে। ধারণা করা হয়, কান্তজিউ মন্দির নির্মানে ব্যবহার করা পাথর আনা হয় হিমালয়, আসামের পার্বত্যাঞ্চল ও বিহারের রাজ মহল পাহার থেকে। এ ছাড়া ইট-বালি টেরাকোটা ও কঠিন পাথরের সংমিশ্রনে এটি তৈরী করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বুকামন হ্যামিলটনের মতে ‍‍‌কান্তজিউ বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরতম মন্দির। দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এষ্টেটের এজেন্ট শ্রী অমলেন্দু ভৌমিক জানান কান্তজিউ মন্দির ৩০০ বছরের ও বেশি প্রাচীন। ইউনেস্কো এ মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ এ মন্দিরকে রক্ষনাবেক্ষণ করে। প্রতিদিন বহু পর্যটক ও ভক্তরা পরিদর্শনে আসেন এবং পূজা দেন। এখানে দৈনিক পূজা অর্চেনা ছাড়াও বাৎসরিক শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহের স্নানযাত্রা, দোলযাত্রা, রাসমেলাসহ প্রভূতী ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়। কান্তজিউ মন্দির দেশের স্থাপত্যশিল্পের অন্যান্য।